(ছবি - সংগৃহীত )
ভূত এই শব্দটা আমরা অনেকেই ছোট থেকে শুনে আসছি কম বা বেশি। ছোট থেকে জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত কাজের সঙ্গে ভয় দেখানোর জন্য পরিবারের গুরুজনেরা এই বিষয়টা আমাদের মাথায় ঢুকিয়ে দিয়েছে। ভূত নাই এই কথাটা বলা একেবারেই ভুল।কারণ বিভিন্ন সময় আমরা বিভিন্ন ভাবে তার প্রমাণ পেয়েছি। পেয়েছি তাদের অস্তিত্ব আনাচে-কানাচে। এমনই এক জায়গার কথা আজকে আমরা জানবো। যার আছে কিছু ইতিহাস। আমাদের অনেকের কাছেই অজানা ইতিহাস আবার অনেকেই জানি। এই কাহিনী এমন এক রেলস্টেশনের যা প্রায় 42 বছর বন্ধ ছিল। কোন ট্রেন থামে নি গত 42 বছর ধরে। এটি কলকাতা আর ঝাড়খণ্ডের যুক্ত করার এক প্রধান রেল লাইন ছিল যার ইতিহাস আমরা আজকে জানবো। ট্রেন না থামার কারণ ছিল একটি মেয়ে। যে স্টেশন মানুষের সুবিধার জন্য তৈরি হয় সেই স্টেশন শুধুমাত্র একটি মেয়ের জন্য অভিশপ্ত আজও। স্টেশন অবস্থিত ওয়েস্ট বেঙ্গল এর রাজধানী কলকাতা থেকে প্রায় 250 কিলোমিটার দূর পুরুলিয়া জেলার বেগুনকোদর নামক একটি গ্রামে। এই গ্রামটি পুরুলিয়া শহর অঞ্চল থেকে প্রায় 40 থেকে 45 কিলোমিটার ভেতরে অবস্থিত।
সালটা ছিলো 1960 সেই সময় বেগুনকোদর গ্রামে কোন স্টেশন ছিলনা। রেললাইন ছিল কিন্তু স্টেশন ছিল খুব দূরে। গ্রামবাসীকে ট্রেন ধরার জন্য 25 থেকে 30 কিলোমিটার দূরে যেতে হতো। এর জন্য বেগুনকদর এবং তার আশপাশের গ্রামের মানুষদের অসুবিধায় পড়তে হতো। সকল গ্রামবাসীরা মিলে এক রেলস্ট্রেশন এর আবেদন জানায় সরকারের কাছে। 1962 সালে একটি স্টেশন স্থাপিত হয়। খুব বড়ো ছিলনা এই স্টেশন কিন্তু এখানকার স্থানীয় গ্রামবাসীদের জন্য ঠিকই ছিল।1962 সালেই চালু করে দেওয়া হয় এই স্টেশন। সেই সময় বেগুনকোদর গ্রামের মানুষেমানুষের যে অসুবিধা হচ্ছিল। সেই অসুবিধা নিমূল হয়ে গেল।ট্রেন আসতো স্টেশনে থামতো কিছু মানুষ উঠতো কিছু মানুষ নামতো। সবই ঠিক ছিল।শুধুমাএ 5 বছর এর জন্য।
1967 সালে মোহন নামে স্টেশন মাস্টারের পোস্টিং হয় স্টেশনে। তিনি ওখানকার সরকারি কোয়াটারে থাকতো।প্রথম ব্যক্তি যে ছিলেন সাক্ষী। তিনি হঠাৎ একদিন একটি মেয়েকে ফুটতে দেখে ট্রেনের সঙ্গে। প্রথম দিন তিনি অতটা পাত্তা দেয়নি। কিন্তু পরের দিন যখন তিনি আবার একই ঘটনা ঘটতে দেখে তখন তিনি একটু অবাক হয়ে যায়। লক্ষ্য করেন মেয়েটি ট্রেনের সঙ্গে ছুটছে কিন্তু ট্রেনে উঠছে না। সেদিনও পাত্তা দেননি ভেবেছিলেন হয়তো খেলছে মেয়েটির ট্রেনের সঙ্গে। পরের দিন সারাদিন সেই মেয়েটিকে স্টেশনে খুঁজতে থাকলেন। কিন্তু তাকে দেখতে পেলেন না কোথাও। রাত হতেই যখনই ট্রেনের আগমন ঘটে তিনি আবারও মেয়েটিকে দেখতে পান। সেদিন তিনি একটু বেশি অবাক হন কারণ মেয়েটির সেদিন ট্রেনের সঙ্গে সঙ্গে ছিল না ট্রেনের আগে আগে ট্রেন লাইনে ছুটছিল। পরের দিন তিনি সহকর্মীদের সেই কথা বলে। অনেকেই সেটা বিশ্বাস করেননি। কিছুদিন পর মোহন অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং তার মৃত্যু ঘটে। এখান থেকেই এই ঘটনা লোকমুখে প্রচার হতে শুরু করে। এরপর দ্বিতীয় স্টেশনমাস্টার আসে। তিনিও একই কথা বলেন। তিনি বলেন ততক্ষণ রাতের ট্রেন দেখতে পাওয়া যায় না পাওয়া যায় না। যখনই প্রেম দেখতে পাওয়া যায় এখনই মেয়েটিকেও ছুটতে দেখা যায়। কখনো ট্রেনের আগে আবার কখনো ট্রেনের সঙ্গে। দ্বিতীয় স্টেশন মাস্টার যখন প্রথম স্টেশন মাস্টার মোহন এর মৃত্যুর ঘটনা শোনে তখন সে কাজ ছেড়ে পালিয়ে যায়। ফিরে আসে না। আর কিছু সময় পর তৃতীয় মাস্টার আসে এবং উনিও চলে যায়। সেখান থেকে কিছুদিনের মধ্যেই। এও বলেন যে তার পোস্টিং যে কোন অঞ্চলে হোক কিন্তু বেগুনকোদর স্টেশন এ জীবনেও না। এই ঘটনা ছড়িয়ে পড়ার পর স্টেশনে আসা বন্ধ করে দিতে থাকে স্থানীয় গ্রামবাসীরা। কর্মচারীরাও সব কাজে আসা বন্ধ করে দেয়। কারন অনেকেই পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়। কোন মেয়েটিকে স্টেশনের নাচতে দেখা যায় কখনো আবার তাকে ট্রেনের সাথে ছুটতে দেখা যায়। দিনের আলোয় একটা দুটো মানুষ কে স্টেশনে দেখা গেলেও বিকেল পাঁচটার পর আশেপাশে কাউকে দেখা যেত না। এমন কি স্থানীয় গ্রামবাসীরাও মেয়েটিকে অনেকবার দেখেছে। কিছু কিছু মানুষ এও বলে স্টেশনে একটি গাছ আছে মধ্যে তাকে বসে থাকতে দেখা যায়। এই ঘটনা ধীরে ধীরে raliwayএর ওপর মহলে এ পৌছায়। কলকাতায় যখন খবর এসে পৌঁছায়। তখন চেষ্টা করা হয় কেউ যাতে স্টেশনে গিয়ে কাজ করে কিন্তু কেউ রাজি হয়নি ওই স্টেশনে যেতে। অনেকে মন্তব্য করে "চাকরি ছেড়ে দেবো কিন্তু বেগুনকোদর স্টেশনে যাবনা। তখনো পর্যন্ত স্টেশনে ট্রেন থামত কিন্তু কোন যাত্রী উঠতো না আর কেউ নামতো না। এমকি স্থানীয় গ্রামবাসীরা আবার 25-30 কিলোমিটার দূর স্টেশন থেকেই ট্রেন ধরা শুরু করে। কিন্তু কখনও কেউ ভুলে বেগুনকোদর স্টেশনে যেত না। তাদের আবেদনে এই স্টেশন তৈরি হয় তারাই আসা বন্ধ করে দেয়। স্টেশনে স্টেশনমাস্টার নেই, সিগন্যালম্যান নেই, টিটি নেই এবং যাদের জন্য এই স্টেশন তারা নেই। এর ফলে Raliwayএর ওপর মহল থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে স্টেশনটি বন্ধ করে দেয়া হবে। 1967 সালে স্টেশনটি বন্ধ করে দেয়। চালু হওয়ার ঠিক পাঁচ বছরের মধ্যেই। Raliway উপর মহল থেকে স্টেশনটি ভুতুড়ে বলে ঘোষিত করে দেওয়া হয় । এটা কোন মন গড়া কাহিনী নয় এটি indian Raliway official records এ লেখা আছে। এরপর বছরের পর বছর কেটে যায় তাও স্টেশন পুনরায়
অনেক কথা বলেছেন।ওখানকার লোকাল
MLA যার অধীনে বেগুনকোদর স্টেশন ছিল।
তিনি বলেন সত্যিই একটি মেয়ে আত্মা বসবাস
করে। যারা এই মেয়েটিকে দেখেছে অসুস্থ হয়ে
পড়েছে পরবর্তী সময়ে। এমনকি ঝাড়খণ্ডের
ডেপুটি CM সুধীর মাহাত্য উনি একই কথা
বলেছিলেন। যেখানে সরকার নিজেই মেনে
নিয়েছিল সেখানে সাধারণ মানুষও মেনে নেয়।
সময়ের সঙ্গে মানুষের মধ্যে এতটাই ভয় সৃষ্টি
হয়েছিল।যখন কোনো ট্রেন বেগুনকোদর
স্টেশন দিয়ে যেত তখন স্টেশনে দাঁড়ানো তো দূরের কথা 4-5 কিলোমিটার থেকে ডাইভার ট্রেনের গতিবেগ বাড়িয়ে দিত যাতে স্টেশনে ট্রেন না থামে।স্টেশন আসার আগে সমস্ত যাত্রীরা জানালা বন্ধ করে রাখতো এবং খেয়াল রাখতো যাতে কেউ ভুল করে স্টেশনের দিকে না তাকায়। সাধারনত যেসব যাত্রীরা দরজার কাছে দাড়িয়ে যাতায়াত করতো তারাও দরজা বন্ধ করে দিত। মেনে নিলাম বেগুনকদর স্টেশনে ভূত আছে। একটি মেয়েকে সেখানে ঘুরতে দেখা যায়।কিন্তু কে সেই মেয়ে? ওখানকার স্থানীয় গ্রামবাসীদের প্রশ্ন করে করলে জানা যাবে সবার একই উত্তর চলন্ত ট্রেনে একটি মেয়ে পড়ে মৃত্যু ঘটেছিল। তারপর শুরু হয়। হয়তো মেয়ে টি কোথাও যাওয়ার জন্য ট্রেন ধরতে এসেছিল। এখনো যখন ট্রেন আসে আত্মা ছুটতে থাকে ট্রেনের সাথে। অন্যদিকে যখন কলকাতায় এই খবর এসে পৌঁছায়। তখন কলকাতার কিছু Travel Agencyপর্যটকদেরএই সব জায়গা থেকে শুরু করে অর্থ উপার্জন করতে ![]() |
| (ছবি - সংগৃহীত ) |
(বর্তমানে বেগুনকোদর স্টেশনের ছবি - সংগৃহীত )




Darun hoya6a ❤️
ReplyDelete